“অধরা উপলব্ধি”

আজিজুর রহমানঃ

মোর কর্ণকূহরে কভূ আসেনিকো ভেসে, শ্রাবন ধারার ছন্দায়িত কোন শব্দ,
এ দুনয়নে আজও হয়নিকো দেখা,শিশিরের মুক্তাসম রুপ, কখনও বুলিয়ে যায়নি এ দেহকে, হেমন্তের শীতল পরশ! শীতের জড়তা যে কেমন? তাও যেন হৃদয়ের খরতাপের কাছে ঘেষতেই পারেনি!
বসন্তের সুশোভিত রুপ সেও যে কেমন, ধরা দেয়নিকো মোর উপলব্ধিতে, ফাগুনের মলয় সমীরণ আন্দোলিত করেনি কভু হৃদয় কে।
আমি দেখেছি শুধু বৈশাখের রুদ্ররুপ, কাল বৈশাখী ঝড়ের তান্ডব,দেখেছি পথের উপর সমূলে উপড়ে যাওয়া বৃক্ষকে,শুনতে পেয়েছি তার করুণ আর্তনাদ !
দেখেছি কোন দিন মজুরের খড়ো চাল উড়ে যাওয়া গৃহের ভগ্নদশা, তাঁর চিন্তক্লিষ্ট মূখচ্ছবি,করুন দৃষ্টির আকুলতা।দেখেছি জ্যৈষ্ঠের খরতাপে চৌচির হয়ে যাওয়া বিস্তৃর্ন মাঠ, এতটুকু জলের সন্ধানে ফেরা তৃষ্ণার্ত পশুদের বুভুক্ষু চাহনি! মোর জীবনও তেমনি খরতাপে গ্রাসিয়াছে আমার আমিত্ব কে। পৃথিবীর রুপ, রস,সূধা অবলোকনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যেন নেই মোর, নেই কোন উপলব্ধির ইন্দ্রিয়, আমি কোন এক জড়, চাপিয়া বসিয়াছি, পৃথিবীর স্কন্ধে। না আমি কবি, না আমি প্রেমিক, না আমি সুর শ্রষ্ঠা, না কোন কর্মচঞ্চল মানুষ। যার কৃত্বিতে আলোকিত হয়েছে, এ ধরনীর ক্ষুদ্র কোন অংশ! তাই এ ভাবনা মোর চিরসাথী, কেন এ বৃথা আগমন এ ধরা মাঝে!

এই বিভাগের আরও খবর