দামুড়হুদার জয়রামপুরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেতে বাল্য বিবাহ

দামুড়হুদার জয়রামপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেতে অতঃপর বাল্য বিবাহ,মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিয়ে পড়ান দামুড়হুদার বহুল আলোচিত কুতুব কাজী

১,৬৭৪

দামুড়হুদার জয়রামপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেতে অতঃপর বাল্য বিবাহ,মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিয়ে পড়ান দামুড়হুদার বহুল আলোচিত কুতুব কাজী

 

রকিবুল হাসান তোতা ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদকঃ

চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার বহুল আলোচিত কুতুব কাজী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে
জয়রামপুর গ্রামের মাঠপাড়ার আহার আলীর নাতনী সানজিদা খাতুন (১৫) ৭ম
শ্রেনীর ছাত্রীর সাথে একই গ্রামের জয়রামপুর মাঠপাড়ার ডালুর ছেলে স্বাধীনের
(২০) ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেতে অতঃপর বাল্য বিবাহ। আর এই বিবাহ দেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দামুড়হুদার বহুল আলোচিত কুতুব কাজী।
জানা গেছে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর মাঠপাড়ার আহার আলীর নাতনি সানজিদা খাতুন কে গত ৭ নভেম্বর ২০২০ তারিখে একই এলাকার ডালোর ছেলে স্বাধীন রাস্তা থেকে সানজিদাকে ডেকে এক ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে এলাকার লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একই এলাকার গ্রাম্য মাতব্বর এবং নেতা তাজউদ্দীন বিষয়টি মীমাংসার কথা বলেন তারই এক পর্যায়ে দামুড়হুদার বহুল আলোচিত কুতুব কাজির কাছে নিয়ে ২ লক্ষ টাকা দেন মহরে বাল্য বিবাহ দেন। গত ৭ই নভেম্বর ২০ইং তারিখে কুতুব কাজীর বাড়িতে বসে এ বিবাহ দেওয়া হয় (যার ভিডিও
রয়েছে)।স্বাধীন তার স্ত্রীকে নিয়ে দেড় মাস সংসার করার পর স্বাধীনসহ তার
পরিবারের লোকজনের অত্যাচারে সানজিদা বাবার বাড়িতে চলে যায়।এখন স্বাধীন ও
তার পরিবারের লোকজন বলতে থাকে সানজিদার সাথে স্বাধীন বিয়ে করেনি। পরে
সানজিদা খাতুন বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা কোর্টে স্বাধীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। কোর্ট বিয়ের কাবিননামা দেখতে চাইলে সানজিদার পরিবার কুতুর কাজীর নিকট
কাবিনামা চাইলে কাজি বিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে।এ দিকে কুতুব কাজীকে
স্বাধীনের পরিবার ম্যানেজ করায় কুতুব কাজী অস্বীকার করে বলে আমি বিয়ে
পড়াইনি। অথচ কাজী যখন বিয়ে পড়ায় তখন ভিডিও করে রাখে মেয়ে পক্ষের
লোকজন।কুতুব কাজীর লম্বা হাত হওয়ায় ভিডিওকে তোয়ক্কা না করেই অস্বীকার
করতে থাকে।কাবিনামা না দেওয়ার পায়তারা চালিয়ে আসছে চতুর এ কাজী সাহেব।এক
দিকে স্বাধীন সানজিদাকে বিয়ে করে দেড় মাস সংসার করে বিয়ের কথা অস্বীকার
করছে অন্য দিকে কাজী সাহেব বিয়ের কাবিননামা না দেওয়ার পায়তারা করছে।তাই
সানজিদার অধিকার বিয়ের কাবিনামা উদ্ধারসহ স্বাধীন ও কুতুব কাজীকে আইনের
আওতায় আনবেন প্রসাশন এমটিই চাওয়া ভোক্তভোগি মহলের।
সাদজিদার খালা সালমা বেগম জানান,আমার বোনের মেয়ে সানজিদাকে একজনের বাড়ি
নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে ।পরে একই গ্রামের তাহাজ্জত মোড়ল স্বাধীন ও সানজিদার
সাথে বিয়ে দিয়ে মিমাংসা করে।এখন গ্রামের মোড়ল তাহাজ্জত বলছে তাদের বিয়ে
হয়নি।স্বাধীন কোর্টে বলেছে আমি বিয়ে করিনি।কুতুব কাজী বলেছে ছেলে মেয়ের
বয়স হয়নি আমি কাবিনামা দিব না আপনারা যা পারেন তাই করে নেন।আমরা এখন
মেয়েকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি।
কুতুব কাজী বলেন,আমি বিয়ে পড়িয়েছি আপনাদের কাছে ভিডিও আছে তাই কি হয়েছে
আমি তোমাদের কাবিনামা দিব না।আপনারা যা পারেন তাই করেন। এদিকে সানজিদার খালা সালমা বেগম তিনি আরো বলেন আমাদের গ্রামের নেতা তাজউদ্দীনসহ ধর্ষক স্বাধীনের পরিবারের লোকজন আমার পরিবারের লোকজনকে একপ্রকার হুমকি-ধামকি দিয়ে চলেছে তাই আমি আমার বোনের মেয়ের ন্যায় বিচারের আশা করছি প্রশাসনের কাছে।
একই গ্রামের নেতা তাজউদ্দীন বলেন , তাদের তো বিয়ে হয়নি,বিয়ে হয়নি তো
দেড় মাস সংসার করলো কিভাবে এমন প্রশ্ন করিলে তিনি জানান আমি জানিনা । এদিকে ধর্ষক স্বাধীনের পিতা ডালুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন বিয়ের পর দেড় মাস সংসার করেছে তারা।কিন্তু এখন কিভাবে সেই বিয়ে অস্বীকার করছে ধর্ষক স্বাধীনের পরিবারের লোকজন। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আব্দুল খালেক এর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন তারা
অভিযোগ করিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর