রোজা এবং তারাবির নামাজ দুটি পৃথক নিয়ামত পৃথক রহমত 

৫৬

রোজা এবং তারাবির নামাজ
দুটি পৃথক নিয়ামত
পৃথক রহমত

পীরজাদা মোহাম্মদ হাসান আলী

” নিশ্চয়ই রমজান মাসের রোজা উম্মতে মোহাম্মদির জন্য এক অনন্য নিয়ামত”

রোজা বা সিয়াম সাধনা অন্য কোন নবির উম্মতের জন্য ফরজ ছিলনা। অন্যান্য নবির উম্মতের জন্য রোজা ছিল কিন্ত সেটা নফল বা ফরজও ছিল অনেকের মতে কিন্ত আখেরী নবির উম্মতদের জন্য যেরূপ মর্যাদাপূর্ণ রোজা এমন সওয়াব পূর্ণ রোজা আর কোন নবির উম্মতের জন্য ছিলনা। পূর্বাপর নবিদের জামানায় রোজা ছিল একটি বা দুইটি বা তিনটি এবং সেটাও বিশেষ কোন কারনে বা উপলক্ষে কিন্ত আাখেরী জামানার নবি মোহাম্মদ এর উম্মতের জন্য এমন মর্যাদাপূরণ একটি রমজান মাস বহু ভ্যাগের ব্যাপার। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নিজ জবানে ঘোষনা করেন রমজান মাসের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। পূর্বাপার জামানার নবিদের উন্মতগণ এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াবের ভাগি হত আখেরী নবির উম্মতগণ কেবল মাত্র রোমজান মাস ইনাদত করেই তারচেয়ে বেশি সওয়াবের ভাগি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে একমাত্র আখেরীনবি মোহাম্মদের ইজ্জতের খাতিরে।
রাসুল (সাঃ) বলেন পবিত্র রমজান মাস পেয়েও যে বা যারা জীবনের পাপ সমুহ মোচন করতে পারলনা তার চেয়ে হতভাগা আর কে হতে পারে! রমজান হল রহমতের মাস, রমজান হল মাগফিরাতের মাস, রমজান হল নাজাতের মাস, রমজান হল পাপ মোচনের মাস,রমজান হল দোয়া কবুল হওয়ার মাস।রমজানের ফজিলত লিখে শেষ করার নয়। পবিত্র রমজান মাসের তারাবি নামাজ এক অনন্য ফজিলতপূর্ণ ইবাদত, রাসুল ( সাঃ) বলেন রমজান মাসের চাঁদ দেখে যারা তারাবির নামাজ আদায় করল এবং পরিপূর্ণ ভাবে সারা মাস সিয়াম সাধনা করল তারা যেন সদ্য ভুমিষ্ট শিশুর ন্যায় নিশ্পাপ হয়েগেল।
অন্য কোন নবির উম্মতের জন্য তারাবির নামাজ ছিলনা। তারাবির নামাজ কেবল মাত্র রমজান মাসের রমজানের জন্য অন্য কোন সময় এই নামাজ পড়ার নিয়ম নাই তাই রমজান মাস আসলে কেহ যেন তাতে অবহেলা না করে বরং অতি গুরুত্বের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করে কেননা তার জীবনে আর তারাবির নামাজ নাও আসতে পারে কারন যা সবসময়ের জন্য ফরজ যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ফজরের নামাজ না পড়লে জহুর আছর পড়তে পারে কিন্ত রোমজান মাস একবার শেষ হলে তা আবার ফিরেআসতে পুরো একবছর লাগবে এই একবছর কার কপালে জুটবে কে রোজা রাখার সৌভাগ্য অর্জন করবে! তাই অবহেলা না করে যে ইবাদত সামনে উপস্থিত তা
সবার আগে গুরুত্ব দিয়ে আদায় করতে হয়। বিশেষ করে রমজান মাস পেয়েও যদি কেহ গাফিলতি করে সিয়াম সাধনা হতে বিরত থাকে তবে তারচেয়ে কপাল পোড়া আর কে হতে পারে! পবিত্র হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে রমজান মাসে রোজার ইফতারের পূর্বে বিশেষ মহুর্তে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ বিধান রয়েছে যা অন্য কোন মাসে বা সময়ে নাই।রমজান মাসে এক টাকা দান করলে অন্য মাসে হাজার টাকা দানের চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।রমজান মাসের দশ রাকত নামাজ অন্য মাসের হাজার রাকাত নামাজের চেয়েও উত্তম কারন এই মাসেই রয়েছে পবিত্র লাইলাতুলকদর রজনী। চলবে

এই বিভাগের আরও খবর