” হাজার মাসের চেয়েও উত্তম মাস হল ‘ ‘ রমজান মাস ‘ “

৯৮

” হাজার মাসের চেয়েও উত্তম মাস হল ‘ ‘ রমজান মাস ‘ ”

পীরজাদা মোহাম্মদ হাসান আলী

‘ নিশ্চয়ই কোরআন নাজিল করা হয়েছে ‘. ‘ এক মহিমান্নিত পবিত্র রজনিতে ‘

হযরত রাসুল (সা:) কে কতিপয় সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞ্যাস করেছিল ,হুজুর আমরা তো অন্যান্য নবির উম্মতের চেয়ে ইবাদতের ক্ষেত্রে পিছনে পরে যাব কারন অন্যান্য নবির উম্মতগণ অনেক বেশি হায়াত পেয়েছিলেন এবং তারা দির্ঘদিন ইবাদত করার সুযোগ পেয়েছিল । আমাদের হায়াত তুলুনামুলক ভাবে কম সেক্ষেত্রে আমরা তো ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের সমকক্ষ হতে পারব না । রাসুল ( সা:) সাহাবাদের কথা শুনে কিয়দক্ষন চুপ করে থাকলেন এবং বেশ করেকবার আকাশের দিকে তাকালেন এনম সময় হযরত জিব্রাইল (আ:) এসে বল্লেন ” হে আখেরী জামানার রাসুল আপনার এবং আপনার উম্মতের জন্য সু সংবাদ , প্রতিপালক মহান আল্লাহ্ আপনার উপর এমন এক নিয়ামত ও বরকতময় রজনী দান করবেন যা অন্য কোন নবি ও তার উম্মতের জন্য দান করেন নি “। ঠিক তখনি পবিত্র কোরআন শরিফের ‘ সুরাতুল কদর ‘ নাজিল করা হয় । এই সুরার মধ্যে মহান আল্লাহ গোষনা করেছেন ‘ কদর রজনী হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ এই রাতের ইবাদত হাজার রাতের ইবাদতের চেয়েও উত্তম ! যেহেতু রমজান বছরে একবার আসে তাহলে আমরা আখেরী নবির উম্মতগন কত সৌভাগ্যবান একবার ভেবে দেখেছেন কি ? মহান প্রতিপালক আমাদের নবি ও তার উম্মতদেরকে কত বড় ঈজ্জত দান করেছেন ! এই রাতের ইবাদত পূর্বাপর নবিদের উম্মতের চেয়ে হাজারগুন বেশি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ , পূর্বপর নবিদের উম্মগণ একহাজার বছর ভরে যে ইবাদত করবে আমরা আখেরী নবির উম্মতগণ তা মাত্র এক কদর রজনীতেই করতে পারব ,মহান আল্লাহর দরবারে লাখকোটি শুকরিয়া যে আল্লাহ আখেরী নবি ও তার উম্মতের জন্য কত বড় নিয়ামত দান করেছেন।
সুরা ‘ কদরের ‘ মধ্যে মহান আল্লাহ গোষনা করেছেন এই কদর রজনিতে আমার ফেরেস্তাগণ আমার নিয়ামত ও রহমত নিয়ে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে এবং বান্দাদের কে ডেকে‌ বলে‌ ওগো কে আছ আল্লাহর ইবাদতকারী তোমাদের রহমত দানকরার জন্য আমরা ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করছি , তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে যত পার আজ মহান আল্লাহর‌ নিয়ামত গ্রহন কর । রমজান মাসের যে কোন নফল ইবাদত অন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে প্রতিপালক মহান আল্লাহ্ তার নিজ জবানে গোষনা করেছেন এজন্যই জীবনে যে কয়টা রমজান মাস আমরা ভাগ্যগুনে লাভ করি তা যেন যথাযথ ভাবে পালন করি তবেই মুক্তির কিছুকটা আশা করা যায় । রাসুল ( সা:) বলেছেল তার জান্য দুক্ষহয় ,যে রমজান পেল অথচ গুনা মাফ করতে পারলনা , অপর এক হাদিসে আছে ,সেই সবচেয়ে বড় হতভাগা যে রমজান মাস পেয়েও জীবনের পাপ মোচন করতে পারলনা । আবু হুরায়রা রাসুল (সা:) থেকে বলেছেন রমজান এমন এক বরকতময় ও নিয়ামতপূর্ণ মাস যার ব্যাখ্যা করে শেষ করা যাবেনা রমজান মাসের দান সদগা সহ সকল ইবাদতই অন্য যে কোন মাসের , সময়ের চেয়ে হাজারগুন উত্তম । পবিত্র কোরআনের ভাষায় রমজানকে সয়াম বা সনযম সাধনা বলে অভিহিত করা হয়েছে তাই এই মাসকে আত্নশুদ্ধির মাসও বলা হয় সিয়াম বা সনযম সাধনা দ্বারা সুধু পানহার হতে বিরত থাকা বুঝায়নি বরং পানাহারের সাথে সাথে আর দশটি ইন্দ্রিয় রয়েছে প্রতিটি মানুষের মধ্যে সেগুলোকেও সিয়াম বা সনযম সাধনার মাধ্যমে পরিসুদ্ধ করতে হবে তবেই পরিপূর্ণ সিয়াম বা রোজা আদায় হবে । রোজাব্রত আবস্থায় অন্যের হক মেরে খেলে কি রোজা আদায় করা হবে? কাজেই পানাহার হতে বিরত থাকার সংগে সংগে হিংসা নিন্দা , অহন্কার জিনা ব্যাবিচার , মিথ্যা , কলহ বিবাদ সৃষ্টি করা ও চোগলখরি করা হতে বিরত থাকা ও চক্ষু কর্ণ নাসিকা জিহব্বা ত্বক হস্ত পদ সহ সকল অঙ্গের সকল কু কর্ম হতে বিরত থাকতে হবে তবেই পূর্নাঙ্গ সিয়াম বা রোজা আদায় হবে আর এ জন্যেই রমজান মাসকে আত্নশুদ্ধির মাস বলা হয় । চলবে

এই বিভাগের আরও খবর